জাল দলিল করে জনৈক ব্যক্তি ওই জায়গার মালিক দাবি করেন
এরপর সেটা নিয়ে মামলা হয়
১৩ বছর ধরে ওই মামলা স্থগিত রয়েছে
এ জায়গাটিই আমাদের একমাত্র সম্বল
এখানে উঁচু দালান করে এর প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি জাদুঘর করতে চাই
বাকিগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করব
জবাবে তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব
পাঠক আসুন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে কয়েকটি কথা শুনি
১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার ব্রাক্ষণবাড়িয়ার রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
জীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতার মহান পেশা বেছে নেন
এরপর বাবা জগবন্ধু দত্তের আগ্রহে আইন পেশায় নিয়োজিত হন
ওকালতি করতে গিয়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর নিপীড়নের কথা শুনে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন
তিনি রাজনীতির ময়দানে ছিলেন বিপ্লবের অতন্দ্রপ্রহরী
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে করেছেন প্রতিবাদ- প্রতিরোধ
তিনি অবিভক্ত বাংলার বিধানসভার সদস্য ছিলেন
১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ এই দিনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন
তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী ছিলেন
১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় গৃহবন্দী ছিলেন
এরপর সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেন
১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এই বাড়ি থেকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও তাঁর ছেলে দিলীপ দত্তকে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে
এরপর আর তাঁদের হদিস মেলেনি
তাঁর নামে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়
১৬০ আসনের ওই ছাত্রাবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্ররা থাকছেন
তিনি স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন
তিনি কমরেড ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত নামে পরিচিত ছিলেন
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শহীদ হয়েছেন ৩৯ বছর আগে
কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তাঁর বাড়িটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে
এ নিয়ে বহুবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংসদ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন
পাঁচ দফার দাবিগুলো ছিল অবিলম্বে বাড়ির আইনি জটিলতা নিরসন বাড়িটির সংরক্ষণ ও সংস্কার মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন তাঁর নামে হাসপাতাল স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা
সংসদের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার পাল ও সদস্যসচিব নাজমূল বারী চৌধুরী বলেন একসঙ্গে দুটি আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্বের সংখ্যা খুবই কম
বর্তমান সরকার চাইলেই বাড়িটিকে রক্ষা করতে পারবে
কুমিল্লাবাসীর উৎকণ্ঠা সরকারি উদ্যোগ না থাকলে বাড়িটি যেকোনো সময়ে বেহাত হয়ে যেতে পারে
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই বাড়ি কেবল কুমিল্লাবাসীর কাছে পরিচিত নয় অবিভক্ত বাংলার মানুষের কাছে এর নাম রয়েছে
কুমিল্লার সংস্কৃতিকর্মীদের বিশ্বাস এবার কিছু একটা হবে
সেই কিছুর প্রতীক্ষায় রইলেন তারা
শেষ পর্যন্ত বিচার পেয়েছেন
সারা বাড়ি নিস্তব্ধ
বসার ঘরে বইয়ের তাকে থরে থরে সাজানো বই
পাশে রাখা বিভিন্ন ধরনের পুতুল
দেয়ালজুড়ে ছবি
নীরবতা ভেঙে সুফিয়া হোসেন কথা বলে উঠলেন
এগুলো সবই আমার মেয়ের
বই পড়তে খুব পছন্দ করত
পুতুল কেনাও ওর শখ ছিল
তাই তো বড় মেয়ে আমেরিকা থেকে ওকে বারবি পুতুল পাঠিয়েছিল
ঘরের কোনায় পড়ে থাকা সিডি প্লেয়ার দেখিয়ে তিনি বললেন ওটাও সিলভীর ফারজানা হোসেন
সালামির টাকা জমিয়ে কিনেছিল
৫০০ টাকা কম হওয়ায় কিনতে পারছিল না
বাবাকে বলতেই সে দিয়েছিল
এর সবই এখন স্মৃতি
কেউ আর গান শোনে না
বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফারজানা হোসেনের মা সুফিয়া হোসেন
একটি দুর্ঘটনা এই পরিবারটিকে নীরবতার চাদরে ঢেকে দিয়েছে
২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর
সকালে ঢাকার মৌচাকে আলাউদ্দিন সুইটমিটের সামনে ফারজানা ও তাঁর বান্ধবী লিজা রিকশায় করে পড়তে যাচ্ছিলেন
হঠাৎ পেছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান এসে ধাক্কা দেয়
এতে তাঁরা রিকশা থেকে পড়ে যান
ঘটনাস্থলেই কাভার্ড ভ্যানের চাপায় ফারজানা মারা যান
সেদিনই ফারজানার খালা বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন
দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলে ওই মামলা
অবশেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওই মামলার রায় হয়
ঢাকার মহানগর হাকিম মুন্সি আবদুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন
রায়ে কাভার্ড ভ্যানের চালক নুরুল ইসলামের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত
ফারজানার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে রামপুরার বাসায় গিয়েছিলাম
তিনি বলতে থাকেন এত দিনের জমে থাকা কষ্টের কথা
মনে হয় আমার মেয়েটা এখনই এসে পড়বে
ওকে হারিয়ে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে
স্বপ্ন ভেঙে গেছে
কীভাবে আমি বেঁচে আছি জানি না
এখনো বিশ্বাস হয় না মেয়েটা নেই
সেদিনও বিশ্বাস হচ্ছিল না
রোজার মাস
দিনটি ছিল শুক্রবার
মিরপুরে স্যারের বাসায় যাবে
সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওকে ঘুম থেকে তুললাম
রোজা ছিল ও
এরপর গোসল করে নিল
আমাকে বলল “মা অনেক দিন ফার্মের মুরগি রুই মাছ খাই না
” বাসায় অলিম্পিয়া পাউরুটি আছে কি না জানতে চাইল
ওটি দিয়ে ইফতার করবে
খুব পছন্দ করত
রান্নাঘর থেকে বললাম আজ তোমার বাবাকে আনতে বলব
আমি ওকে পাউরুটি আর মাখন কেনার জন্য ওকে ১০০ টাকা দিলাম
ওর বাবা বলল কুমিল্লার মাখন কিনতে
ছোট্ট একটা টিপ পরল কপালে
বেরোনোর সময় কেন যেন সেদিন অনেকক্ষণ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল
মেয়েজানতে চাইল মা বাকরখানি কি ঘরে আছে দরজায় দাঁড়িয়ে বলছিল “এত রুটি কার জন্য তৈরি করছ
পরোটা বানাতে পারো না
” উত্তরে বললাম তোমার আব্বু তো রোজা নেই
রুটি অনেকক্ষণ নরম থাকবে
বাকরখানি আর চা একসঙ্গে খাওয়া মেয়েই আমাকে শিখিয়েছিল
তিন বছর ধরে আর খাই না
বলে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন
ও বেরিয়েছিল নয়টা বিশের দিকে
খবরটা দিল লিজাই
মৌচাক থেকে লিজাকে রিকশায় নিয়ে ওরা একসঙ্গে পড়তে যেত
পৌনে ১০টার দিকে ফোনটা বেজে উঠল
ও শুধু কাঁদছে
আমি দৌড়ে কিছু টাকা নিয়ে বের হয়ে গেলাম
শুধু ওর বাবাকে বললাম মেয়ের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে
